প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:২৪ AM

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বামীর টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এক নারীর পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘুমের ওষুধ মিশানো দুধ পান করিয়ে স্বামীকে অচেতন করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। হত্যার পর লাশ গুমে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল ঘরের মেঝেতে খোঁড়া কবর এবং সিমেন্ট-বালু।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঠাণ্ডু বেপারী (৩৫) উপজেলার ছলেনামা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন।
জানা গেছে, ঠাণ্ডু বেপারী প্রায় ১১ লাখ টাকা হাওলাত দিয়েছিলেন তার স্ত্রী লাবনী আক্তারের পরিবারকে। এ টাকা ফেরত চাইতে তিনি শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও ৭০ হাজার টাকা ছিল।
পরিবারের দাবি, ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই লাবনী আক্তার (২৮), তার মা শহিদা বেগম ও দাদি জনকী বেগম মিলে ঠাণ্ডুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সন্ধ্যায় ঠাণ্ডুকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। গভীর রাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘরের মেঝে খুঁড়ে আগে থেকেই একটি কবর তৈরি রাখা ছিল, যার পাশে মজুদ ছিল সিমেন্ট ও বালু।
ঠাণ্ডুকে হত্যার জন্য কাস্তে ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘুমের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। মুখে দড়ি বাঁধা থাকলেও আশপাশের লোকজন তার শব্দ শুনে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকতে দেখা যায়, আর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা দ্রুত ঠাণ্ডুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায় রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকা আত্মসাৎ। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঠাণ্ডুর চাচা মো. রমযান আলী জানান, “শ্বশুরবাড়ির পাশে জমি কেনার জন্য প্রায় ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৭০ হাজার টাকা নিয়ে জায়গা দেখতে আসেন ঠাণ্ডু। ওই টাকা ও আগের পাওনা আত্মসাতের জন্যই তার ওপর হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকেই লাবনী আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে