
কুমিল্লার লাকসামে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী নবাব ও প্রথিতযশা জমিদার নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর সম্পত্তি দখল ও দালাল চক্রের তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় নাগরিক সমাজ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় একটি রেস্তোরায় আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্রতিনিধি আবুল কালাম বিপু এবং লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাগরিক কমিটির সদস্য শিহাব উদ্দিন আয়মন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান আলহাজ্ব ইদ্রিস মজুমদার, কুমিল্লা জেলা মানবকল্যাণ কর্মকর্তা শাহজাহান কবির, কামাল মিয়া, লাকসাম উপজেলা সভাপতি শহীদ উল্লাহসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৮৩৪ সালে লাকসামের পশ্চিমগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী নবাব ফয়জুন্নেছা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী নবাব এবং সাহিত্যিক ও সমাজসেবক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার পিতা জমিদার আহম্মদ আলী চৌধুরী এবং মাতা আরফান্নেছা চৌধুরানী। ১৮৬০ সালে তিনি সৈয়দ গাজীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৮৮৩ সালে পিতার মৃত্যুর পর জমিদারীর উত্তরাধিকারী হন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নবাব ফয়জুন্নেছার জমিদারী সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিল—দলিল নং ৪০৪, ৩৯২, ৫৬৬১, ইসি নং ৫৪৬, ৫৪৭ ও ৫৪৮—এবং মুক্তিপত্র দলিলের মাধ্যমে মালিকানা ও ওয়াকফ সংক্রান্ত নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালে ওই সম্পত্তি কীভাবে সরকারি গেজেটভুক্ত হলো, তা স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, জমিদার বাড়িকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরিত করার পর থেকে বাজেট ব্যয়ের স্বচ্ছতা, সংস্কারের মান এবং সম্পদ লুটপাট নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিমগাঁও ডাকঘর, মসজিদসংলগ্ন হোস্টেল ভবন এবং আশপাশের সম্পত্তি দখল নিয়ে স্থানীয় একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।
আবুল কালাম বিপু বলেন, “ব্রিটিশ আমলের ‘ল্যাপস’ নীতিতে উত্তরাধিকারহীন জমিদারদের সম্পত্তি সরকার দখল করত। কিন্তু নবাব ফয়জুন্নেছার কন্যা বদরুন্নেছা চৌধুরানী বৈধ দলিলের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজন ও কর্মচারীদের কিছু সম্পত্তি মালিকানায় দেন। এসব দলিল আজও বৈধ।”
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয় তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট দাগের সম্পত্তি ওয়াকফ প্রমাণিত না হওয়ায় নোটিশ প্রত্যাহার করে বৈধ মালিকদের ভোগদখলের স্বীকৃতি দিয়েছে।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বক্তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান—নবাব ফয়জুন্নেছার সম্পত্তি সংরক্ষণ, দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর