প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ আহমদ রফিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় জমিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ সেখানে আনা হলে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ দান করা হবে বারডেম হাসপাতালে। কফিন শোকযাত্রার মাধ্যমে নেওয়া হবে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে তার দেহ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন।
গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ইন্তেকাল করেন এই প্রখ্যাত ভাষাসংগ্রামী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া আহমদ রফিক দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরের একটি ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। ২০০৬ সালে স্ত্রীকে হারানোর পর তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় একাকী জীবনযাপন করেন।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ইতিহাসবিদ আহমদ রফিকের শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা সমাজে গভীর প্রভাব রেখেছে। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান অনন্য; কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে তিনি ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি লাভ করেন।
২০১৯ সালে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করলে অস্ত্রোপচার করা হয়, তবে ফল আশানুরূপ হয়নি। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যায় এবং ২০২৩ সাল নাগাদ তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।
ভাষা ও সাহিত্য আন্দোলনের এই পথিকৃৎের মৃত্যুতে দেশ হারিয়েছে এক অনন্য ব্যক্তিত্বকে, যিনি আজীবন কাজ করেছেন চিন্তা, চেতনা ও মুক্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো