প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম

রংপুরের মিঠাপুকুরে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) প্রতিরোধে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধি-দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা অ্যানথ্রাক্স রোগ নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলার সকল ইউনিয়নে নিয়মিত টীকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খামারি এবং মাংস বিক্রেতাদের সাথে মতবিনিময়সহ অসুস্থ পশু জবাই বন্ধে কঠোর তদরকি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, ইজারাদার সাথে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
খামারিদের নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ এবং উপজেলা জুড়ে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, পরিচালক ও উপ-পরিচালকরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারকি এবং মনিটরিং করার জন্য একজন উপ-পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরে বর্তমানে গরুর সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ এবং দেড় লক্ষাধিকের উপরে ছাগল রয়েছে । সরকারি ভাবে ৩৪ হাজার গবাদি পশুর জন্য টিকা বরাদ্দ, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত পশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে এবং মানুষের জীবনেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই তারা সকল খামারি, মাংস ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অসুস্থ পশু থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিঠাপুকুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলতাব হোসেন বলেন, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বনের পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিনি/কেআইকে