প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:১০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়িতে দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলছে মসজিদ ও মন্দিরের ধর্মীয় কার্যক্রম। নামাজ কিংবা পূজা, কোনো আচারেই কখনো সাম্প্রদায়িক বিরোধ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। বরং হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একে অপরের ধর্মচর্চায় সহযোগিতা করে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র দাস ‘ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই দুর্গাপূজা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মন্দিরের প্রায় এক দশক পর, ১৯৬২ সালে বাড়ির আঙিনার অপরপাশে নির্মিত হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। পূর্বাংশে মন্দির আর পশ্চিমাংশে মসজিদ, একই মাঠে যুগের পর যুগ ধরে চলছে পূজা ও নামাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূজা মণ্ডপে ঢাক-ঢোল বাজনার মধ্যে পূজা-অর্চনা চলছে। কিন্তু আজানের ডাক পড়তেই থেমে যায় ঢাক-ঢোল ও মাইকের শব্দ। মুসল্লিরা নিরব পরিবেশে নামাজ শেষ করেন। নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার কর্মসূচি। একইভাবে পূজার সময় মুসল্লিরা নামাজ ছাড়া আর কোনো ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকেন না। প্রতিমা দর্শনার্থীরাও প্রায়ই অবস্থান নেন মসজিদের আঙিনায়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এখানে ধর্ম পালনে কখনো কোনো সংঘাত হয়নি। পূজার সময় তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখেন, আর এটা কাউকে আলাদাভাবে বলে দিতে হয় না।
অপরদিকে হিন্দু ভক্তরা বলেন, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিমরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশেই মসজিদ গড়ে ওঠার পর থেকে দুটি ধর্মের অনুসারীরা সৌহার্দ্যের সঙ্গে ধর্মচর্চা চালিয়ে আসছে। তাদের প্রত্যাশা, এই সম্প্রীতি যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে।
নাগরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ঝুটন কুমার সাহা জানান, এবছর উপজেলায় ১২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। তবে চৌধুরী বাড়ির মসজিদ-মন্দিরের সম্প্রীতি সারাদেশের জন্য অনন্য উদাহরণ।
একই মত প্রকাশ করেন চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, “এখানে ভেদাভেদ নেই। আজানের সময় পূজা থেমে যায়, আবার নামাজ শেষে শুরু হয় পূজা। সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো