প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার চরাইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৮ মাস আগে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর এখন মাত্র একটি টিনের চালার ঘরে চলছে ৬ শ্রেণির পাঠদান।
এই ঘরটিও স্থায়ী কোনো ভবন নয়; স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন নিজের উঠানে অস্থায়ীভাবে বানিয়ে দিয়েছেন। নেই দরজা-জানালা, টেবিল-চেয়ার কিংবা পাঠ্য উপকরণ রাখার ব্যবস্থা। অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২০ জন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, এক ঘরে ৬ শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে। কোনো শ্রেণির ক্লাস চলাকালে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রোদ-বৃষ্টি-গরমে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
অফিস কক্ষ না থাকায় শিক্ষকদের এখন আশ্রয় স্যান্ডেলের দোকানে। দোকানদার আব্দুল মান্নান স্বপন বলেন, ‘বৃষ্টিতে স্যাররা বাইরে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কষ্ট দেখে আমার দোকানে বসতে দিয়েছি। দোকান বন্ধ থাকলে তাদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া, আরিফা ও ওমর আলী বলে, ‘আমরা ঠিকমতো পড়তে পারি না। বৃষ্টি এলে ভিজে যাই, গরমে ফ্যান নাই, খেলাধুলার মাঠও নাই।’
অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করে বৃত্তির আশা করে। আমাদের সন্তানরা ক্লাস করারই সুযোগ পায় না।’
রাজিবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, জমি না থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। কেউ জমি দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সহায়তা আসেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো