প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী নবীনগর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে এবং ১৯৮৫ সালে এটি সরকারিকরণ করা হয়। ২০১২ সালে এই কলেজে স্নাতক (অনার্স) কোর্স চালু হয়। বর্তমানে কলেজটিতে বাংলা, ইংরেজি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা এই আটটি বিষয়ে অনার্স চালু আছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক মিলিয়ে বর্তমানে কলেজটিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২ হাজার ৮৩৮ জন। তবে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ৩৬ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ২২ জন। প্রয়োজনের তুলনায় ১৪ জন শিক্ষক কম থাকায় এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। চার বছর ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পরীক্ষার ফলাফল ভয়াবহভাবে নিচের দিকে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের জন্য নেই কোনো মহিলা হোস্টেল। এতে করে অনেক ছাত্রী লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছেন। এছাড়া অনার্স পরীক্ষা দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যেতে হয়। দূরপাল্লার এ যাত্রায় শিক্ষার্থীরা নানান বিড়ম্বনায় পড়েন। তাই শিক্ষার্থীরা মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, শিক্ষক সংকট নিরসন ও অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র নবীনগরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের কলেজে ১৪ জন শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। যদি ১৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় আমাদের কলেজের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমলে নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিটি বিভাগেই নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না। আমর দ্রুত এ সমস্যাটির সমাধান চাই।’
রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়েদুল ইসলাম খান জানান, অনেক বিভাগে একজন করে শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় এখানে, অথচ শিক্ষক স্বল্পতার কারণে তাদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।
এব্যাপারে নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে লেখাপড়ার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে হাপিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া মহিলা হোস্টেল না থাকায় ছাত্রীরাও পড়ছেন সমস্যায়। আমি সমস্যার কথাগুলো ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় করে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করবেন।’
এব্যাপারে নবীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আল মামুন বলেন, ‘ইতিমধ্যে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমরা জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রসাশক স্যারকে জানিয়েছি। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম