প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৮ পিএম

খুলনায় নবজাতক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহাজাদী ও তার মা নার্গিস বেগম অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেলে কারাগার ও হাসপাতাল প্রিজন সেল থেকে তারা মুক্তি পান।
আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, সকালে আদালতের আদেশের অনুলিপি তুলে জামিনের আবেদন করলে আদালত বিশেষ বিবেচনায় এবং বিনা জামানতে তাদের জামিন দেন। খুলনা জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন বলেন, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে নার্গিস বেগম কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শাহাজাদী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পান।
এর আগে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হলেও আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় শাহাজাদীর জামিন শুনানি হয়নি এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে মঙ্গলবার পুনরায় আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। জামিনে মুক্তি পেয়ে শাহাজাদী সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর রূপসার একটি ক্লিনিকে শাহাজাদীর কোলজুড়ে জন্ম নেয় পঞ্চম সন্তান, একটি কন্যাশিশু। এর আগে তার চার কন্যাসন্তান জন্মেছিল। স্বামী সিরাজুল ইসলাম ও শ্বশুরবাড়ির প্রত্যাশা ছিল এবার ছেলে সন্তান হবে, কিন্তু কন্যা জন্ম পাওয়ায় সিরাজুল হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।
পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে চার দিন বয়সী আরেক নবজাতক ছেলে চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমের কাছ থেকে। পুলিশ জানায়, তিনি মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে নবজাতকটি চুরি করেছিলেন। শিশুর বাবা মো. মির্জা সুজন মানবপাচার আইনে মামলা করেন এবং সেই মামলায় শাহাজাদী ও তার মা আসামি হন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএরফ