প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২৫ ৭:৩১ PM

ফাইল ছবি
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া সনদ ব্যবহার, পদোন্নতিতে প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগকারী, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক শেখ, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুদক চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেন। অনুলিপি পাঠানো হয় বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বিভাগ এবং রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছেও।
অভিযোগপত্রে আলীমুজ্জামানের পাশাপাশি কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের বিরুদ্ধেও সনদ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
সনদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮৭ সালে অষ্টম শ্রেণির সনদে জন্মতারিখ ছিল ২৫ নভেম্বর ১৯৬৮। সেই হিসেবে চাকরিতে যোগদানের সময় তার বয়স দাঁড়ায় ১৯ বছর। কিন্তু ১৯৮৯ সালে এসএসসি সনদে জন্মতারিখ দেখানো হয় ১৪ জুন ১৯৭৩, যা পূর্বের সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সকে অবৈধ করে তোলে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনুমতি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, সরকারি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকলেও বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ, এবং পূর্বে স্থগিতকৃত ইনক্রিমেন্ট তুলেও নেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি ৩০ জনের মধ্যে পদোন্নতির গ্রেডেশন তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলীমুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। আমি দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেবো।”
অভিযোগকারী আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, ভুয়া সনদ ও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে কেউ যদি তিন দশকের বেশি সময় রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করেন এবং এখনও পদোন্নতির তালিকায় শীর্ষে থাকেন, তবে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের ওপর বড় আঘাত। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো