বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি      ফেনীতে দাঈ সম্মেলন অনুষ্ঠিত      জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গাজী নজরুলের আরও ৪ দিনের রিমান্ড      সৌদিতে ড্রোন-মিসাইল হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি      সহকারী সার্জন ও ডেন্টাল সার্জন পদে ৫ হাজার নিয়োগ      
ভরা মৌসুমেও নাগালের বাইরে হাতিয়ায় ইলিশের দাম
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়া ও উপকূলীয় বাজারগুলোতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে প্রিয় এই মাছ। প্রতিদিন মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে অসংখ্য নৌকা ভিড়লেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম দেখা যায়।

জেলেরা জানান, নদীতে মাছ কিছুটা কম ধরা পড়লেও মূল সমস্যা বাজার ব্যবস্থাপনা। আড়তদার ও দালালরা মাছ কিনে উচ্চ দামে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেগুলো ঢাকাসহ বড় শহরে দ্বিগুণ দামে পাঠানো হয়। এতে জেলেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন, আর সাধারণ ভোক্তারা কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে।

হাতিয়ার স্থানীয় বাজারে ছোট আকারের ইলিশ (৫০০–৬০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০–১৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের (৭০০–৮০০ গ্রাম) ১৬০০–১৮০০ টাকা এবং বড় ইলিশ (১ কেজি বা তার বেশি) ২০০০–২২০০ টাকায়। অথচ কয়েক বছর আগেও একই মৌসুমে এসব মাছ অর্ধেক দামে মিলত।

বাজারে আসা ক্রেতা আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, “প্রতি মৌসুমে ইলিশ কিনে খাই। কিন্তু এবার দাম দেখে হতাশ হয়েছি। আমাদের মতো মানুষের জন্য ইলিশ এখন ধনীদের খাবার হয়ে গেছে।” একই মত প্রকাশ করেন গৃহিণী আইমুন ফাতেমা লিয়া। তিনি বলেন, “ছেলেমেয়েরা ইলিশ খেতে চায়, কিন্তু এক কেজি মাছ কিনলেই পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার খরচ উঠে যায়।”

জেলেদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিক্রি মূল্যও বাড়াতে হচ্ছে। হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটের জেলে ওমর মাঝি বলেন, “আমরা নদীতে দিন-রাত কষ্ট করি, কিন্তু আড়তের দালালদের কারণে আসল দামটা হাতে পাই না। শহরে গিয়ে একই মাছের দাম কয়েক গুণ হয়ে যায়।”

স্থানীয় মেসার্স মাহি মৎস্য আড়তের ম্যানেজার নাজিম উদ্দীন জানান, “চাহিদা অনুযায়ী মাছ না পাওয়া গেলেও মোটামুটি সরবরাহ আছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকলে দাম কিছুটা কমতে পারে।”

এফবি সুরাইয়ার ফিশিং-এর মালিক জাকের হোসেন বলেন, “একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে ইলিশ ভোজ বাঙালির আনন্দঘন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু এখন ভরা মৌসুমেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইলিশ খাওয়া বিলাসিতা হয়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় মাছ কাগজে-কলমেই থেকে যাবে, মানুষের থালায় নয়।”

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। তবে অধিকাংশ ইলিশ সরাসরি ঢাকাসহ বড় শহরে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যায়। এজন্য দাম বেড়ে যায়। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। জেলেদের কাছ থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে মাছ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা গেলে দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারবে।

 

স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো 



আরও সংবাদ   বিষয়:  ইলিশ   ভরা মৌসুম  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close