
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম এলাকায় দুধকুমার নদে ভয়াবহ ভাঙনে এক মাসে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অন্তত ৮০টি পরিবার।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতেদুপুরে নদীতীরবর্তী চর দামালগ্রাম এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন ইউনিয়নের ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শত শত নারী-পুরুষ। ভাঙনের তীব্রতায় দিশেহারা মানুষজন নদীর পাড়েই দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, দুধকুমার নদে নতুন সুইচগেট থেকে পাঁচমাথা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বাড়িঘর, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসা ও স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে।
ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে কিংবা নিরাপদ কোনো স্থানে ঠাঁই নিলেও অধিকাংশ পরিবারই এখন দিশেহারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সময়মতো ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নদীতীরবর্তী আরও কয়েকশ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
পাঁচটি মসজিদ, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ইবতেদায়ী মাদরাসা ইতোমধ্যেই ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থাপনাও অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
মানববন্ধনে বক্তৃতা দেন, ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি লাভলু মিয়া, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নরনবী মিয়া, সমাজসেবক গোলজার হোসেন, রহমত আলী, তৈয়বুর রহমান ব্যাপারী, আমজাদ হোসেন ও সাফেরউদ্দিন ব্যাপারী প্রমুখ।
বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগীরা জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও এখনো পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তারা বলেন, “ভাঙন থামাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা বা বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দিতে হবে। তা না হলে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পুরো গ্রাম নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে