প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৩০ AM

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস হয়েছে। একে ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও আলজেরিয়া। দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি না হয়, তবে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের ওপর ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হবে। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির আওতায় ওই নিষেধাজ্ঞা পূর্বে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ই-থ্রি দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে জাতিসংঘে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করে।
ইরানি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ অভিযোগ করেছেন, ‘ইউরোপীয়রা যৌথ পরমাণু চুক্তির (জেসিপিওএ) ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। তারা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে।’
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করেছিল, যার ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিজের অঙ্গীকার শিথিল করতে শুরু করে এবং জাতিসংঘ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখে।
গত বছর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইসরাইলের হামলায় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীও রয়েছেন। পরে ইরানও প্রতিশোধ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সবশেষে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি হওয়ার পরও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হলো।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ