প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৭ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদীতে পুলিশের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শীর্ষ নৌ-ডাকাত রাসেল মিয়া ওরফে ‘ফিশা রাসেল’ (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১১) নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া রাসেল মিয়া গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের চরচাষী গ্রামের শহিদুল্লাহ সরকারের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও গজারিয়া থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট ২০২৫ বিকেল সাড়ে ৫টায় মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা ও জামালপুর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মেঘনা নদীতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ‘ফিশা রাসেল’, নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের ডাকাতদল ৪-৫টি হাইস্পিড ট্রলারযোগে এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও চারদিক থেকে গুলি ছোড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায, ‘ফিশা রাসেল’ দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নৌযানে চাঁদাবাজি ও জলদস্যু কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। নয়ন-পিয়াস-রাসেল বাহিনীর হাতে নদীতে সংঘটিত কয়েকটি গোলাগুলিতে ইতোমধ্যে নৌডাকাত বাবলা খালাসী, স্যুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘসহ কয়েকজন নিহত হন।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত ফিশা রাসেলের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১টি হত্যা, ১১টি ডাকাতি ও ৪টি অস্ত্র মামলা।
এ পর্যন্ত ঢাকা, কুমিল্লা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৮ জন শীর্ষ নৌ-ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে