
সংগৃহীত ছবি
ইসলামের আলোচনায় কেয়ামতের আলামত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত সেই নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইয়াজুজ-মাজুজের আগমন।
হজরত হুযায়ফা (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদিন সাহাবিদের সঙ্গে কেয়ামত নিয়ে আলোচনা চলছিল। এসময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এসে জানতে চান, তারা কী নিয়ে কথা বলছেন।
সাহাবিরা বললেন, “আমরা কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করছি।” তখন তিনি বললেন, “দশটি আলামত না আসা পর্যন্ত কেয়ামত ঘটবে না।” সেই আলামতের তালিকায় উল্লেখ ছিল ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশও। (মুসলিম, হাদিস : ২৯০১)
ইয়াজুজ-মাজুজ কারা?
হাদিস ও কোরআনের আলোকে জানা যায়, ইয়াজুজ-মাজুজও মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত। নূহ (আ.)–এর সন্তানদের বংশধর হিসেবেই তাদের উৎপত্তি। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।” (সুরা আস-সাফফাত : ৭৭)
অর্থাৎ, মহাপ্লাবনের পর সমগ্র মানবজাতি নূহ (আ.)–এর সন্তানদের থেকেই বিস্তার লাভ করেছে।
আগমনের ঘটনা
নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)–এর বর্ণনা অনুযায়ী, দাজ্জালের ধ্বংসের পর আল্লাহ ঘোষণা করবেন, “আমি এমন এক জাতিকে বের করব যাদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা কারো নেই।” তখন ঈসা (আ.) মুসলিমদের নিয়ে তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন।
আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজের জন্য পথ খুলে দেবেন। তারা এমন দ্রুতগতিতে বের হবে যে মনে হবে পাহাড় থেকে পিছলে পড়ছে। তাদের প্রথম দল তবরিয়া হ্রদের পানি সম্পূর্ণ পান করে ফেলবে। দ্বিতীয় দল এসে হ্রদকে শুকনো অবস্থায় পাবে, যেন কখনো পানি ছিলই না।
ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ
তারা জাবালুল-খমর নামক পাহাড়ে উঠে ঘোষণা করবে, “আমরা পৃথিবীর সব অধিবাসীকে শেষ করেছি, এবার আকাশের অধিবাসীদের পালা।” তারা আকাশের দিকে তীর ছুড়বে, আর আল্লাহর হুকুমে সেই তীর রক্তমাখা হয়ে ফিরে আসবে। এতে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ভাববে আকাশের বাসিন্দারাও ধ্বংস হলো।
এই সময় মুসলিমরা খাদ্যসংকটে পড়বে। এক গরুর মাথা হবে একশ’ দীনারের থেকেও মূল্যবান। হতাশার মধ্যেই ঈসা (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ মহামারী পাঠাবেন, যাতে মুহূর্তেই ইয়াজুজ-মাজুজের সবাই মারা যাবে।
পরিণতি
ঈসা (আ.) তুর থেকে নেমে আসবেন এবং দেখবেন, পৃথিবীজুড়ে শুধু ইয়াজুজ-মাজুজের মৃতদেহ। দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠবে। আবারো দোয়া করা হলে, আল্লাহ বিশাল আকারের পাখি পাঠাবেন, যারা সেই মৃতদেহ দূরে ফেলে দেবে। কিছু বর্ণনায় এসেছে, সেগুলো সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর প্রবল বৃষ্টিতে পৃথিবী ধুয়ে যাবে, স্বচ্ছ হয়ে উঠবে জমিন। আল্লাহ জমিনকে পুনরায় বরকতময় করবেন। ডালিম হবে এত বড় যে একটি ফল পুরো একটি দলকে তৃপ্ত করবে। একটি উটের দুধ হবে একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট, গাভীর দুধ এক গোত্রের জন্য এবং ছাগলের দুধ হবে একটি পরিবারের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
শান্তির সময়কাল
চল্লিশ বছর ধরে চলবে এই শান্তি, বরকত আর স্বস্তির জীবন। এরপর ধীরে ধীরে কেয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসবে। আল্লাহ একটি মনোরম বাতাস পাঠাবেন, যা প্রতিটি মুসলিমের প্রাণ কেড়ে নেবে। পৃথিবীতে তখন কেবল কাফের আর অন্যায়কারী লোকজন অবশিষ্ট থাকবে। তাদের ওপরই কেয়ামত সংঘটিত হবে।