প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৬ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তবে আশার আলো জ্বালিয়েছে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম। কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালীর মহিপুর ও লতাচাপলী ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার পরিবার এখন দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে সচ্ছলতার পথে হাঁটছে।
কারিতাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে এবং ক্যাথলিক এজেন্সি ফর ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট (CAFOD)-এর অর্থায়নে “একর্যাব প্রকল্প” এর আওতায় এসব পরিবার পরিবেশবান্ধব কৃষি অনুশীলন করছে। তারা ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন, জৈব সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করছে। প্রকল্পে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ১ হাজার জন সরাসরি উপকারভোগী হয়েছেন, যার প্রায় ১০০ শতাংশই নারী। পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। ২৮০ জন কৃষক এখন নিয়মিত কেঁচো সার উৎপাদন ও বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এ ছাড়া গড়ে উঠেছে ১৪টি বিক্রয় কেন্দ্র এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ‘নারী কর্নার’।
প্রকল্পের সুফল ভোগীদের মধ্যে আজিমপুর গ্রামের আয়েশা বেগম ও তাজেপাড়া গ্রামের সেলিনা উল্লেখযোগ্য। আয়েশা বেগম বলেন, আগে পরিবারের খাওয়া-পরার কষ্ট হলেও এখন মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করেন। সেলিনা জানান, আগে দু’মুঠো ভাত জোটাতে কষ্ট হলেও এখন মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। একইভাবে সালমা বেগম বলেন, সামান্য সহায়তা নিয়ে শুরু করা উদ্যোগই এখন সংসারের ভরসা।
প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা জর্জ বৈরাগী জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ শুধু স্বাবলম্বীই হচ্ছেন না, বরং পরিবেশবান্ধব কৃষির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন। কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, কুয়াকাটা ও মহিপুরের কৃষকরা এখন রাসায়নিক সার ছেড়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন স্বপ্ন ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ