প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২৭ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা-রাধাগঞ্জ সরকারি খাল পুনরায় অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এক কিলোমিটার খাল দখলমুক্ত করার পরও, প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের খাল দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ ও মাছ চাষ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বিরামকান্দি গ্রামের বাসিন্দা কালাচাঁদ কারিকর ওরফে ফকির (৬০) খালের একটি অংশ নিজের দাবি করে সেখানে বালু ফেলে বাঁধ তৈরি করেছেন। খালের মধ্যেই স্থাপন করেছেন স্থায়ী ও অস্থায়ী কাঠামো। তবে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি এসব কাজ করেছেন বলে জানা যায়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, খালের অন্তত ৮টি স্থানে বাঁধ ও কিছু বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে খাল দখল করে মাছ চাষ করে আসছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। গত বছর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে খালটি দখলমুক্ত হলে আমরা আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু এখন আবারও আগের মতো দখলদাররা খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর কুশলা-রাধাগঞ্জ খালের উপর নির্মিত ৮টি বাঁধ ও ৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি দখলমুক্ত করা হয়। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত-এর নেতৃত্বে কুশলা ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় একাধিক কৃষক ও বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রশাসন অভিযান চালিয়ে চলে যায়, কিন্তু পরবর্তীতে কেউ নজরদারি করে না। তাই প্রভাবশালীরা আবারও খাল দখলে নিচ্ছে। আমরা গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও কোটালীপাড়া ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, “আমরা কুশলা-রাধাগঞ্জ খালের এক কিলোমিটার অংশ অবৈধ দখলমুক্ত করব। এ খালসহ উপজেলার সকল খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে