প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:২৭ পিএম

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙ্গে জায়গা দখলের পায়তারা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দশটি ঘর ভেঙ্গে জায়গা পূণরায় দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী পরিবার। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
প্রায় ২৯ শতক জমির উপর নির্মাণ ঘরগুলোর ইতিমধ্যে ভিতরের জানালা, দরজা, দেয়াল ও বাথরুমের প্যানসহ সবকিছু ভেঙে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী আনসার আলীর বিরুদ্ধে। রীতিমত ঘরগুলোর চারিদিকের উঠানে ধান চাষ করেছেন। ঘর গুলো ভেঙে দখলে নেয়ার জন্য সম্প্রতি একটি ঘরের বারান্দার তিনটি পিলার ভেঙে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পিলার তিনটি পুনরায় দাঁড় করে বারান্দাটি কোনরকমে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। বাতাসে যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে বারান্দাটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর হলো উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সুইচগেট বাজার এলাকার গনকপাড়ায় খাস জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে দশটি পরিবারের থাকার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে সেখানে দশটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দিয়ে ঘরগুলো হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ঘরগুলোতে যাতায়াত করার মত কোন দিকেই কোন ধরনের রাস্তা নেই। চারদিকে ফসলি জমি ও অদূরে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। বাড়িগুলোর মানুষ জনের যাতায়াত করার মতও কোন রাস্তা নেই সেখানে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের পর যাতায়াতের জন্য ওই এলাকার চাঁদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার নিজস্ব ৫ শতক জমি দান করেন বলে তিনি জানান। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেখানে যাতায়াতের রাস্তাটি নির্মাণ করেনি উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের অতি সন্নিকটে বসবাস করেন আনসার আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি তার তিন সন্তান নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। আনসার আলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের আগে দীর্ঘদিন ধরে খাস খতিয়ানের ওই জায়গাটি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন বলে স্থানীয়রা জানায়। প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করায় আনসার আলী ও তার পুত্র রফিকুল ইসলামের মাথায় যেন বাঁজ ভেঙ্গে পড়ে। ঘরগুলো হস্তান্তরের পর থেকে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় আশ্রয়িত পরিবারগুলোকে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে বিতাড়িত করেছে ওই আনসার আলী। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসীর। ঘরগুলো হস্তান্তরের কিছুদিন পর প্রায় আটটি ঘরের আশ্রয়িত পরিবারগুলোকে বিতাড়িত করার অভিযোগ রয়েছে আনসার আলীর বিরুদ্ধে। তিস্তা নদে সর্বস্ব হারিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় না থাকায় সুফিয়া খাতুন ও লিপি বেগম নামের দু'টি পরিবার আজও মাঝে মাঝে বসবাস করেন সেখানে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ১৪ মাস আগে স্বামী মারা যাওয়া সুফিয়া খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্বামী বেঁচে থাকতে অনেক কষ্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করে বসবাস করতাম এখন আর সেখানে থাকতে পারি না, অনেক অত্যাচার করে ওই আনসার আলী ও তার লোকজন। ঘরের তালা ভেঙ্গে সবকিছু তছনছ করে। তাই ৫/৬ মাস থেকে বাবার বাড়িতে থাকি। দেশের পট পরিবর্তনের কারণেই ওই দুটি পরিবারকেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠে আনসার আলী গংদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনসার আলী ও তার বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই আশ্রয়ণের জায়গাটি আমরা যুগ যুগ ধরে ভোগ দখল করে আসছিলাম। হঠাৎ সেখানে আশ্রয়ণের ঘর করে প্রশাসন। জায়গাটি নিয়ে আমরা প্রায় ১০ বছর আগে ১ টি মামলা করেছি সরকারকে বিবাদি করে। মামলা নিষ্পত্তি না করেই সেখানে আশ্রয়ণের ঘর করে আওয়ামী সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আশ্রয়িত পরিবারগুলোকে বিতারিত করার বিষয়টি সত্য নয়। ভুতুরে জায়গায় যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তারা সেখানে থাকে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত তহশিলদারের সাথে কথা বলে রাস্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে