প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:০২ পিএম আপডেট: ১৩.০৯.২০২৫ ৩:৩১ PM

আফরিন সুলতানা ওরফে দিবা
রাজধানীর মুগদায় আফরিন সুলতানা ওরফে দিবা (২৪) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্য তৈরি হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে দক্ষিণ মান্ডা প্রথম গলির একটি ভবনের সপ্তম তলা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আফরিনের পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলাম। তবে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নিয়ে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে সাইফুলের সঙ্গে আফরিনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। দক্ষিণ মান্ডার ওই বাসায় তাঁরা ভাড়া থাকতেন।
বুধবার বিকেলে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে আফরিনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সাইফুল শ্বশুর আনোয়ারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
আফরিনের বাবা মুহম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন সাইফুল। বেকার ও মাদকাসক্ত সাইফুল সংসার চালানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। নেশার টাকা না দিলে, নিজের ও বাচ্চার ভরণ পোষণের টাকা এবং সংসারের খরচের টাকা চাইলেই আফরিনকে মারধর করতেন। এছাড়াও অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সাইফুলের। আনোয়ারুলের দাবি, আফরিনকে পিটিয়ে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও আফরিনের পা খাটের ওপর লেগে ছিল। তাছাড়া কক্ষের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ ছিল না। এ কারণে ঘটনাটি সন্দেহজনক।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “আফরিনের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ আছে। প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় আপাতত আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার সাইফুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ মিললে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর