জাকসু নির্বাচনে ভোট গণনা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।
আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চারুকলা বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা। তিনি বলেন, আমি প্রীতিলতা হলে রিটার্নিং অফিসার এবং তিনি পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। গণনাকাজের জন্য সকালে আমি তাকে ফোন করি। আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তিনি উপস্থিত হন। দরজার সামনে পড়ে যান। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে এনাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাই। আনুমানিক ৯টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ায় ডাক্তার সঠিক কারণ বলতে পারেননি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন হার্ট সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, রাতে সবাই ক্লান্ত ছিল এবং পোলিং এজেন্ট না থাকায় রাতেই সব হলের সংসদের গণনা শেষ করা যায়নি। সকালে প্রীতিলতা হল সংসদের ভোট গণনার সময় তিনি তার অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে ভোট গণনাকেন্দ্রে আসেন। সিনেট হলের দরজার সামনে এসে পড়ে যান। অ্যাম্বুলেন্সযোগে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি তিনি ইতিমধ্যেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন। ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এ ঘটনায় আমাদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি বাসায় চলে যান। এরপর আজ সকালে পুনরায় ভোট গণনার জন্য আসেন।
উল্লেখ্য, গতকাল ১১ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও মেশিনের মাধ্যমে গণনার কথা থাকলেও ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেলের আপত্তিতে তা ম্যানুয়ালি করা হয়। এই কারণে নির্বাচনের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরেও শুধু হল সংসদের ভোট গণনা শেষ করা যায়নি নির্বাচন কমিশনের।
এদিকে, এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল ছাত্রদলকে দায়ী করছে। তারা বলছে, ছাত্রদলের অন্যায় ও অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট ম্যানুয়ালি গণনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। মেশিনের মাধ্যমে একবারেই গণনা করা যেত। ম্যানুয়ালি ভোট গণনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক ও অন্যরা এই গরমে অমানবিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এতে ভোটের কাজে জড়িতরা শারীরিক ও মানসিকভাবে শ্রান্ত ও ক্লান্ত হয়েছেন। শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস হয়তো সেই ধকল সহ্য করতে পারেননি। পুরো দায়ভার ছাত্রদল ও ভোট বর্জনকারী শিক্ষকদের নিতে হবে। এটা একটি পরোক্ষ ও সিস্টেমেটিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা যেতে পারে। শুরুতে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভোট গণনার কথা থাকলেও পরে চাপের মুখে ম্যানুয়ালি গণনার বিষয় যুক্ত হয়।