প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ৭:৫৫ PM

তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস
খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ রেজামণি পাড়া ও কারিগরপাড়া। সেখানে ছিল না কোন বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময়ে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ রেজামনি পাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনা প্রধান বিষয়টি জানতে পারেন।
স্থানীয় মেম্বার, কারবারি ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা শোনার পর তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহণ করেন। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ১২০ পরিবারের মাঝে হাসি ফোটলো দুর্গম এই জনপদে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট সমাধানের সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে টেকসই পানি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ, এইচডিএমএস, এএফডবিউসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম, পিএসসি, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ পরিষদ সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা অংশনেন।
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমানোন্নয়নে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। আমাদের সেনাপ্রধান এই এলাকায় চাকরি করার কারণে এখানকার মানুষের প্রতি উনার একটা মায়া কাজ করে। তাই সেনাপ্রধান এই এলাকায় পরিদর্শনে আসার পর এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশে আজকের এই বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে শান্তি-শৃঙ্খলায় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে কাজ করবো।”
পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ায় সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “আগে ঝিরি ও কূপ থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে আসতাম। এ উদ্যোগের ফলে এখন আমরা বিশুদ্ধ পানি বাড়িতেই পাচ্ছি।”
জানা যায়, সেনাপ্রধান চাকরি শুরুতেই এই রেজামনি পাড়া ক্যাম্পে ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ করে সেনাপ্রধান হওয়ার পর পরিদর্শনে এসে এই পরিকল্পনা নেন। এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যা পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন খাগড়াছড়িবাসী।