প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩০ AM আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ৮:৩২ এএম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি আগামী ১৫ বছরে ধাপে ধাপে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করবে বাংলাদেশকে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিটি ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হয়, তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অন্যান্য কিছু চুক্তি বাতিল করলেও এটি বহাল রেখেছে, কারণ এটি ছিল একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন চূড়ান্ত চুক্তি।
চুক্তি অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি আগামী ২০২৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১৬টি করে এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে। প্রথম বছর ২৮টি কার্গো এবং এরপর ২০৪০ সাল পর্যন্ত এ সরবরাহ চলবে। বার্ষিক গড় খরচ হবে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করছেন। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশে এ কোম্পানির কার্যক্রম অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এখন পর্যন্ত এক্সিলারেট বাংলাদেশকে প্রায় ৬৩৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৬টি এলএনজি কার্গো সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্পট কার্গো সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জ্বালানি বিভাগের নীতিপত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, ডিজেল ও এলপিজি আমদানির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা (ট্রেড ডিফিসিট) কমানো হবে। মার্কিন গালফ কোস্ট রিফাইনারি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও সরকার ভাবছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, দেশে গ্যাস সংকট কমাতে এলএনজি আমদানির ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ চুক্তি তারই অংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি একদিকে যেমন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম