
ইসলাম মানুষের ভেতরের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সংগ্রামের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো নফস। কোরআন, হাদিস ও ইসলামি সাহিত্য নফসকে মানুষের অন্তরের সেই শক্তি বা প্রবৃত্তি হিসেবে বর্ণনা করে, যা একদিকে পাপ ও কামনার দিকে টানে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করলে তাকওয়া ও ইবাদতের দিকে নিয়ে যায়। তাই ইসলামি জীবনদর্শনে নফস একটি মৌলিক ধারণা।
নফসের ভাষাগত ও ইসলামি অর্থ
আরবি “নফস” শব্দটি এসেছে মূল ধাতু “নাফাসা” থেকে, যার অর্থ—প্রাণ, আত্মা, অন্তর বা ব্যক্তিসত্তা। ইসলামে নফস বলতে বোঝানো হয় মানুষের অন্তরে গেঁথে থাকা সেই প্রবৃত্তিকে, যা কখনো কল্যাণের দিকে, আবার কখনো অকল্যাণের দিকে প্ররোচিত করে। কোরআনে নফসের বিভিন্ন অবস্থা বর্ণিত হয়েছে:
১. নফসে আম্মারা (পাপপ্রবণ নফস): শুধুই মন্দের দিকে টানে।
২. নফসে লাওয়ামাহ (ধিক্কারদাতা নফস): ভুল করলে অনুতপ্ত করে ও তওবার দিকে নিয়ে যায়।
৩. নফসে মুতমাইন্নাহ (শান্ত আত্মা): আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে।
হাদিসে নফসের গুরুত্ব
রাসুল (সা.) বলেছেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাহিদ সে-ই, যে নিজের নফস ও খেয়ালকে নিয়ন্ত্রণ করে।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৯৭) আরেক হাদিসে তিনি দোয়া করেছেন, “হে আল্লাহ, আমার নফসকে তাকওয়া দান করো এবং তাকে পবিত্র করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২২) ইমাম গাজ্জালি ও ইবন কাইয়িম জাওযি বলেছেন, নফস মূলত নিরপেক্ষ শক্তি; এটি নিয়ন্ত্রণে থাকলে উচ্চ মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থায় পৌঁছায়, আর অশাসিত থাকলে নীচে পড়ে যায়।
জীবনে নফসের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের ভোগবাদী যুগে নফসের প্রলোভন আরও তীব্র। অর্থ, খ্যাতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রলোভন নফসকে ক্রমাগত প্রলুব্ধ করে। কোরআনে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি নফসকে পরিশুদ্ধ করে, সে-ই সফল। আর যে একে কলুষিত করে, সে-ই ধ্বংসপ্রাপ্ত।” (সুরা শামস, আয়াত: ৯-১০) ইসলামের শিক্ষা হলো—প্রকৃত মুজাহিদ সেই, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকওয়ার পথে চালিত করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ