প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১০ পিএম আপডেট: ০৯.০৯.২০২৫ ৫:২২ PM

সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বস্তায় আদা চাষ করে দ্বিগুন লাভের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। বাড়ির আঙিনা, পুকুর পাড় এবং পরিত্যক্ত জমি ও অব্যবহৃত জায়গায় এখন বস্তায় চাষ হচ্ছে আদা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলায় আদা চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৬৬ হেক্টর থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৭০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮০ মেট্রিক টন। এছাড়াও বস্তায় আদা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের আদা চাষের জন্য ২৫টি প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। প্রতি প্রদর্শনীতে ৩০টি করে বস্তায় আদা চাষ করছে। এসকল চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে শুধু অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগছে না বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাড়ির আঙিনা, বাগান, পুকুরপাড় কিংবা পরিত্যক্ত জমিসহ সব জায়গা এখন হয়ে উঠছে আয়-উপার্জনের ক্ষেত্র। ফলে পতিত জায়গায় বস্তা পদ্ধতিতে আদাচাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।
আদা চাষি আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিবছর বাড়ির পাশ্ববর্তী পতিত জায়গায় আদার চাষ করে থাকেন। এবারে পুকুরপাড়ে প্রায় শতাধিক বস্তায় করে আদার চাষ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, 'পতিত জায়গা যেখানে কোন কিছুই চাষের আশা করা যায়না, সেখান থেকে টাকা আয় করা অনেক সৌভাগ্যের। এজন্য পতিত জায়গা ফেলে না রেখে বস্তায় আদাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করে থাকি।'
মোক্তার আহমেদ দুলু বলেন, 'সুপারির বাগানে পতিত জায়গায় ৫শ বস্তায় আদা লাগিয়েছি। আদার ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। তেমন বেশি খরচ হয়নি। এখানে টাকা আয় হবে অনেক বেশি। এছাড়া সুপারির বাগানে আর কোন কিছুই চাষ করা সম্ভব হয় না। এবারে এ জায়গা থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয়ের আশা করছি।'
এছাড়া বিভিন্ন এলাকার অন্যান্য আদা চাষিরা জানান, বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক ফসল। যেখানে আবাদি জমির প্রয়োজন হয়না। বাড়ির আঙ্গিনা, সুপারির বাগান এবং পুকুরপাড় এসব এলাকায় বস্থায় করে আদা চাষ করে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা আয় করা যায়। এছাড়া আদার চাহিদা বাজারে সবসময় থাকায় আদার বাজারদর ভালো থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, 'বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় উপজেলায় দিন দিন আদা চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আদা চাষিদের বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই পোকামাকড় নিধন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে।'
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো