প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:১৩ পিএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৫ ১২:২৭ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের পর তার মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তৌহিদী জনতা নামধারী একদল মানুষ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনায় নুরাল পাগলার অনুসারীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এ সময় গুরুতর আহত রাসেল মোল্লা (২৮) নামের এক যুবক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত রাসেল ঝুট মিস্ত্রির পাড়ার বাসিন্দা আজাদ মোল্লার ছেলে।
সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত জনতা গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। পুরো গোয়ালন্দ এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল আশির দশকে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করে আলোচনায় আসেন তিনি এবং দেশে-বিদেশে বিপুল সংখ্যক অনুসারী গড়ে ওঠে। গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলে তাকে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট ওপরে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয় এবং স্থানীয় তৌহিদী জনতা কবরটিকে স্বাভাবিক করার দাবি জানাতে থাকে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনছার ক্লাব থেকে তৌহিদী জনতার একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রথমে থানার ওসি ও ইউএনওর গাড়িতে হামলা চালায়, পরে নুরাল পাগলার মাজারের দিকে এগিয়ে যায়। একই সময় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অন্য বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হয়ে মাজারে ভাঙচুর চালায়।
এ সময় নুরাল পাগলার অনুসারীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। উত্তেজিত জনতার দাবি, ভক্তরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেল দিয়ে হামলা চালায়, আর ভক্তদের অভিযোগ বিক্ষোভকারীরাই আগে হামলা শুরু করে।
সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হন বলে দাবি করেছে তৌহিদী জনতা। গুরুতর আহত রাসেল মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ওসির গাড়ি ও তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ