প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৩ পিএম আপডেট: ০৫.০৯.২০২৫ ৮:৩৭ PM

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, লোভ হলেও তিনি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পক্ষ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় এক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে একটি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি উপহার পান। ঘড়িটি হাতে পরার পর পছন্দও হয়। তবে দেশে ফিরে এসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি দিয়ে ঘড়িটি রাষ্ট্রীয় তোষাখানায় জমা দেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও জানান, ভারতীয় একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান (আদানি নয়) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। দীর্ঘদিনের পাওনা বকেয়া পরিশোধের কৃতজ্ঞতা জানাতে এসে একটি আইপ্যাড উপহার দিতে চান।
তিনি আরো লেখেন, গত পরশু ভারতীয় এক বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান (আদানি নয়) আমার সঙ্গে দেখা করেন, আমাদের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে। দীর্ঘদিনের পাওনা বকেয়া পরিশোধ করায় কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন। ফেরার সময় বলেন, সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। আমি তাকে বলি উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটা নির্ধারিত মূল্যসীমা আছে। উপহারটি খুলে দেখি একটি আইপ্যাড। বাসার আইপ্যাডটি পুরনো হয়ে গেছে, তাই লোভ হয়। আইপ্যাডটি তাকে ফিরিয়ে দিই। পাশে সোফায় বসে আমার কাণ্ড দেখে অন্য একজন উপদেষ্টা মিটিমিটি হাসছেন।
তবে কোনো উপহারই গ্রহণ করি না এমন নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা লেখেন, বিদেশি মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতরা দেখা করার সময় সুভেনির, বই নিয়ে আসেন। অবাণিজ্যিক পণ্য বা মূল্যসীমার মধ্যে কোনো খাবার, যেমন- চকলেট, সেগুলো গ্রহণ করি। বিনিময়ে তাদের নিজের লেখা বই উপহার দিই। ভাগ্যিস কয়েকটা বই লিখেছিলাম!
ফাওজুল কবির আরো লেখেন, ‘আমার মনে হয়েছে, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ। এটা পারলেই অন্য সব কাজ সহজ হয়ে যায়। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ নির্লোভ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম