প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:১১ AM

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা ছাড়া সব ধরনের ভিসা ইস্যু করছে ভারত। চিকিৎসা ও জরুরি ভিসাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশিদের জন্য অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তবে ভিসা ঘিরে দেশে সক্রিয় প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমিশন।
গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ভারতে বছরে গড়ে প্রায় ১৬ লাখ ভিসা ইস্যু করা হতো। তখন প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার ভিসা দেওয়া হতো। বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় সংখ্যা কমে এসেছে। যদিও পর্যটন ভিসা ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আগে থেকেই দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার ভিসা দেওয়া হতো।
ওই কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে ১৬টি ভিসা কেন্দ্রে আবেদন নেওয়া হতো। কিন্তু ওই সময়ের পর ৪টি কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ঢাকায় ভিসাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ হয়। এতে নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন মাত্র ৫টি কেন্দ্রে ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথমদিকে কেবল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা ভিসা দেওয়া হলেও বর্তমানে পর্যটন ভিসা ছাড়া সব ধরনের ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্ণমাত্রায় ভিসা কার্যক্রম চালু হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে ভিসা সীমিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অসাধু এজেন্ট ও দালালরা। জানা গেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা পোর্টালে জট তৈরি করছে, ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দালাল চক্র দমনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ও রাজশাহীতে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রতারকরা টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের হাসপাতালের জাল নথি, বিদেশি দূতাবাসের ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, নকল প্লেন টিকিট ও ব্যাংক বিবরণী। এতে অনেক জরুরি আবেদনও বাতিল হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরো জানান, জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।