প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:০১ পিএম

ঢাকার আশুলিয়ায় মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় অপহরণ করা হয় পাঁচ বছরের শিশু জোনায়েদকে। কিন্তু টাকা আদায় করার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রাখে অপহরণকারী। ঘটনার ১৩ দিন পর র্যাব–৪ এর একটি আভিযানিক দল মূলহোতা মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার ফারুকনগর এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব।
নিহত জোনায়েদ গাইবান্ধার খামার বোয়ালি গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। তার বাবা–মা দুজনেই পোশাকশ্রমিক। পরিবারটি আশুলিয়ার ফারুকনগর এলাকার মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
অভিযুক্ত মোরসালিন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাপাসিয়া পাড়ার মামুন আলীর ছেলে। সেও একই বাড়িতে ভাড়া থাকত।
র্যাব জানায়, গত ১৬ আগস্ট খেলার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যায় মোরসালিন। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ জঙ্গলে ফেলে রাখে। পরের দিন সে মরদেহের ওপর লতাপাতা চাপা দিয়ে যায়।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর (২৮ আগস্ট) জোনায়েদের মায়ের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে মোরসালিন। প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করে সে, এবং শিশুকে ফেরত দেওয়ার পর বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের শর্ত দেয়। সেই ফোনকলের সূত্র ধরে র্যাব অভিযান চালিয়ে মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব–৪ সিপিসি–২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, “আসামি মোরসালিন স্বীকার করেছে যে ঋণের টাকা শোধ করতে মুক্তিপণের পরিকল্পনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে হত্যা করে জঙ্গলে মরদেহ ফেলে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণের ফোনকল ট্রেস করা হয়। পরে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যেই জঙ্গলের ভেতর থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ