
কোম্পানীগঞ্জে নদীভাঙনে বিলীন উপকূল
ছোট ফেনী নদী ও বামনীয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ। গত এক বছরে প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনকবলিত হয়েছে। মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার একবছর পর নদীভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধির অর্থলোলুপতার কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রশ্রয়ে মুছাপুর রেগুলেটরের আশপাশ থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি সিএফটি বালু উত্তোলন করা হয়। ফলে রেগুলেটর ও ক্লোজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ স্থাপন, প্রস্তাবিত ক্রস ড্যাম নির্মাণ, মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই চাপরাশী খালের ওপর নির্মিত ১৯ ভোল্টের সুইচের পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনের কবলে পড়েছে মুছাপুর ইউনিয়ন, চরএলাহী ইউনিয়ন, চরফকিরা, চরপার্বতী ও চরহাজারী ইউনিয়নের কিছু অংশ।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবদুল্লাহ নয়ন বলেন, “আমার বাড়ির পাশের জনতা বাজারের কোনো চিহ্ন এখন নেই। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল-মাদ্রাসা, ঘরবাড়ি, মৎস্য ও পশু খামারসহ সবই।”
ভাঙনকবলিত পরিবারের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুছাপুর রেগুলেটর ভাঙার পর এই অঞ্চলের যেসব পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছে, তারা বেড়িবাঁধ ও সড়কের আশপাশে, বাগানে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একবছর পার হলেও তাদের পুনর্বাসনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠিকাদারদের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার কাজ চালাচ্ছে, কিন্তু অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের কারণে ধীরগতিতে চলছে। এতে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না হলেও ঠিকাদার ও পাউবো কর্মকর্তাদের পকেট ভারি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অতিমাত্রায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের কারণে ভাঙনের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তেও দেখা গেছে, রেগুলেটর এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ক্লোজার ও রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি সত্যি।
পাউবো নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন, “অতি দ্রুততম সময়ে মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”