প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪১ AM

সংগৃহীত ছবি
সময়ের আগে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া (প্রিম্যাচিওর মেনোপজ) নারীদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অকাল মেনোপজে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা স্বাভাবিক সময়ের মেনোপজ হওয়া নারীদের তুলনায় বেশি।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব নারীর ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে মেনোপজ হয়েছে তাদের তুলনায় কম বয়সে মেনোপজ হওয়া নারীরা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। শুধু হৃদরোগই নয়, এ ধরনের নারীদের হাড়ের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি, হট ফ্ল্যাশের মতো জটিলতাও দেখা দেয়।
কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের সাবেক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ দাস বিশ্বাস বলেন, “মেনোপজ নারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অকাল মেনোপজ হলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”
চিকিৎসকদের মতে, ঋতুচক্রের সঙ্গে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। ইস্ট্রোজেন হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। মেনোপজের ফলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে ধমনীর ক্ষতি হয়, রক্তচাপ বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
ডা. কৃষ্ণা ঘোষ বলেন, “মেয়েদের ঋতুচক্র স্বাভাবিকভাবে শুরু ও শেষ হলেও কোন বয়সে মেনোপজ হবে তা নির্দিষ্ট নয়। হরমোন, জীবনযাপন ও শারীরিক অবস্থা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। ভারতে সাধারণত ৪৫-৫০ বছরের মধ্যে মেনোপজ দেখা গেলেও এর আগেও হতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মেনোপজের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময় থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেওয়া হয়, তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, বয়স, ডায়াবেটিস, জীবনযাত্রা ও মেনোপজ—সব মিলিয়েই নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে অকাল মেনোপজের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা