
মানিকগঞ্জের খাঁর চর, পাবনার ঢালার চর আর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ চর— এই তিন জেলার মিলনবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ২০০ পরিবারের বসতি। অথচ তিন দিকের তিন জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও কোথাও যেন নেই তাদের খোঁজখবর। বিদ্যুৎ নেই, সড়ক নেই, নেই হাসপাতালও। শিশুদের জন্য একমাত্র বিদ্যালয়টি ১০ কিলোমিটার দূরে, সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে একদল তরুণ এ অঞ্চলকে আখ্যা দিয়েছেন— “নিরক্ষর তৈরির কারখানা”।
যোগাযোগের দিক থেকেও চরগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন। দৌলতদিয়া থেকে গোয়ালন্দ চর যেতে লাগে আড়াই ঘণ্টা ট্রলার যাত্রা। পাবনার ঢালার চর থেকে মূল সড়কে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা লাগে নৌকা কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। মানিকগঞ্জের খাঁর চর থেকেও নৌকায় ভেসে যেতে হয় দুই ঘণ্টার পথ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এখানকার শিশুরা বিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। কেউ কেউ ছোট বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে নামছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে অনেককেই জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়।
তবে এ হতাশার মাঝেই আশার আলো জ্বালিয়েছে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগ। ‘আমাদের পাঠশালা’ নামে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়েছে সম্প্রতি। প্রথম দিনেই ভর্তি হয় ৪৫ শিশু।
সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর এনায়েত মুন্সি বলেন, এ চরটি আমার কাছে ভিন্ন ধরনের মনে হয়েছে। কারণ এর তিন পাশে তিনটি চর, যা আবার তিন জেলার অংশ। অবাক হওয়ার বিষয় হলো- এরা এখনও অন্ধকারে ডুবে আছে। তাই তো আমি বিষয়টি জানাই সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মহসিন উল হাকিমের কাছে। সে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছে।
‘আমাদের পাঠশালা’র মূল উদ্যোক্তা সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মহসিন-উল হাকিম বলেন, চর যখন ভাঙে, তখন সব কিছু অন্য চরে গেলেও যায় না শুধু স্কুল। যে কারণেই তৈরি হয় ‘নিরক্ষরের কারখানা’। অন্ধকার থেকে এ শিশুদের বের করে আনতেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বৃত্তবান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা একটু সুদৃষ্টি দিলে পাল্টে যেতে পারে ‘খাঁর চর’, ‘ঢালার চর’ ও গোয়ালন্দ চরের মানুষের জীবনযাত্রা।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, চরাচঞ্চলের মানুষ ভৌগোলিক কারণেই অবহেলিত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে তাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়। এ ছাড়া এডিপি প্রকল্পে তারা সমান অংশ পায় সেটার নজরদারি করা হয়। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর