প্রকাশ: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫২ পিএম আপডেট: ২৪.০৮.২০২৫ ৮:৫৪ PM

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার গোদাখালি, ইছামারা ও কামালপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কামালপুর থেকে গোদাখালি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে শতাধিক বিঘা তিন ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। ধান, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু গত বৃহস্পতিবারই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি নদীতে ভেঙে গেছে বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, যমুনা থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের দূরত্ব এখন মাত্র ২০০ মিটার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়তে পারে। এতে ধুনট উপজেলার কামালপুর, ভেলাবাড়ী, চন্দনবাইশা ও কুতুবপুর ইউনিয়নের লাখো মানুষ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সদ্য রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেতও হুমকির মুখে।
ইছামারা গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বেলিচা বেওয়া বলেন, “গত বৃহস্পতিবার যেভাবে যমুনা নদী ভাঙতে শুরু করেছে, তাতে খুব শিগগিরই আমাদের বাঁধঘেঁষা বাড়িঘরও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এর আগেও আমরা বসতভিটা হারিয়েছি। এবার শেষ সম্বলটুকুও চলে গেলে আমাদের কোথাও ঠাঁই থাকবে না। সরকার যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী (নকশা) মাহফুজুর রহমান বলেন, “যমুনা নদীর ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং স্টাডি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ভিত্তিতে সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাসহ যমুনা পাড়ের হাজারো মানুষ ভাঙনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ইমার্জেন্সি কাজ শুরু করা হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ভাঙন রোধ করা হোক—যেন আর কোনো পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে না হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর