দুমকীতে খানাখন্দে বেহাল দশা ৫০ কি.মি. সড়কের

সড়কের আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে দিনের পর দিন।
পটুয়াখালীর দুমকীতে এলজিইডির ৫০ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল। এতে সড়কের আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে দিনের পর দিন।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুমকী উপজেলার এলজিইডির সরকারি জনতা কলেজ থেকে বাহেরচর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, থানা ব্রিজ থেকে মুন্সীরহাট-মৌকবণ ও জামলা বাজার হয়ে সেকান্দার দফাদার বাড়ি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার, পিরতলা বাজারের উত্তর মাথা থেকে পাতাবুনিয়া বাজার ৩ কিলোমিটার, রাজাখালী বাজার থেকে কদমতলা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, আন্ধাবিয়া সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে নদীর পাড় হয়ে আঙ্গারিয়া বন্দর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, মুরাদিয়ার আব্দুল গনি শিকদার দাখিল মাদ্রাসা থেকে মিয়াবাড়ী-বগা ফেরিঘাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার, বোর্ড অফিস বাজার থেকে কদমতলা বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক সড়ক হতে আঠারগাছিয়া হয়ে পাগলা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার, পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া কামিল মায়েসা হতে ধোপারহাট-নলদোয়ানী পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলজিইডির এই ৫০ কিলোমিটারের বেশি পাকা সড়কের চরম বেহাল অবস্থা ও কার্পেটিং উঠে অসংখ্য খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, যাতায়াতের এ সড়কগুলো যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়াও যাতায়াতের জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
স্থানীয় মিলন মৃধা আক্ষেপ করে জানান, এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতি দ্রুত রাস্তাগুলো সংস্কার দরকার।
অটোচালক ইউসুফ হোসেন বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ায় সহজে কোনো গাড়ি এসব সড়কে যেতে চায় না। একবার আসা-যাওয়ার পর দেখা যায় গাড়ির কোনো না কোনো ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ গাড়ির বাম্পার, চেসিসসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ একাধিকবার ভেঙেছে। মালিকরা ক্ষতি পোষাতে না পেরে এই সমস্ত রাস্তায় যান চলাচল প্রায় বন্ধই রেখেছে। হাতেগোনা কয়েকটা গাড়ি চলাচল করলেও গন্তব্যের শেষ পর্যন্ত যেতে পারছে না। এতে যাত্রীদের আরো দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।”
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন আর রশীদ মোল্লা বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরকারি জনতা কলেজ রোডটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সরকারি জনতা কলেজ, নাসিমা কেরামত আলি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আপতুননেসা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবিরচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ এটি যা খানাখন্দে বেহাল দশা। জনস্বার্থে এই সড়কটিসহ সকল সড়ক সংস্কার প্রয়োজন।”
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, “এই বছরে কিছু সড়ক সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দের আবেদন করা হবে।”