প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৫৮ পিএম আপডেট: ২২.০৮.২০২৫ ৬:২৬ PM

খুলনা জেলার জেলখানা ঘাটের নদীতে ফেরি এবং ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষের ১২ ঘণ্টার অধিক সময় পার হলেও নিখোঁজ আকাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন কোস্টগার্ডও। তারা জেলখানা নদী থেকে শুরু করে শৈলপুর ঘাট পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আকাশের খোঁজ পায়নি। রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া উদ্ধার অভিযান সকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার পর থেকে খেয়াঘাট পারাপারে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়। আকাশের সন্ধানে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালানো হয়। এরপর উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়। সকাল ৭টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বেলা ১২টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অভিযানে ৭ জন ডুবরী অংশ নিয়েছেন।
কোস্টগার্ড মোংলার পেটি অফিসার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে ৪ জন ডুবরী নিয়ে মোংলা থেকে খুলনায় এসেছি। রাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। সকাল থেকে আবারও অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু আকাশের সন্ধান মেলেনি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
নিখোঁজ আকাশের প্রতিবেশী রুপালী খাতুন বলেন, ‘তারা ভাই-বোন। আকাশ খুলনার হাবিব অপটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করত। রাতে দোকান ছুটি হওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার জন্য জেলখানা ঘাট থেকে ট্রলারে উঠে। কিন্তু পথে ফেরি-ট্রলার সংঘর্ষে সে নিখোঁজ হয়। তার স্ত্রী গর্ভবতী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবার ভেঙে পড়েছে।’
এদিকে ট্রলার মাঝিদের অনিয়মের কথা তুলে ধরে ঘাট এলাকার এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘নৌকা পারাপারে মাঝিরা কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা মানে না। ট্রলারে ২৫ যাত্রী উঠতে পারলেও সেখানে তারা ৩৫-৪০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। বৃহস্পতিবার রাতে আবহাওয়া খারাপ ছিল এবং নদী বন্দরে সতর্ক সংকেত ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ সরব হয়, কিন্তু কিছু দিন পর আবার একই অবস্থা ফিরে আসে। আমরা মাঝিদের একগুঁয়ে মনোভাব থেকে বের হতে চাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রলারের এক মহিলা যাত্রী বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। অনেক সময় বোরখা পরা মহিলারা ট্রলারে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। মাঝিরা পারাপারে কোনো নিয়ম-নীতি মানে না। তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।’
মোহাম্মদ আলী, একজন সরকারি কর্মকর্তা ও সেনেরবাজার এলাকার বাসিন্দা, ঘাটের চরম অব্যবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, মাঝিরা তাদের খেয়াল খুশি মতো যাত্রী নিয়ে চলাচল করে।
তিনি বলেন, ‘সরকার আসে ও যায়, শুধু মানুষের পরিবর্তন হয়, কিন্তু স্বভাবের পরিবর্তন হয় না।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম