
সংগৃহীত ছবি
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫’ গঠন করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
নয় সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে। কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের সুপারিশপত্র (২৫ কপি) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে জমা দিতে হবে।
এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর জন্য গত ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল সরকার।
সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জহির উদ্দিন, এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং চ ছা মং, এয়ার কমডোর জামিল উদ্দিন আহম্মদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিলিয়া শারমিন ও ক্যাপ্টেন মো. তৌহিদ সাগর। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিশাদুল ইসলাম খান কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর (এমওডিসি ও ধর্মীয় পরামর্শক কর্মকর্তাসহ) সদস্যদের বর্তমান বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধা, পারিবারিক ভাতা ইত্যাদি পর্যালোচনা করে আধুনিক ও যৌক্তিক কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, বিশেষায়িত চাকরিধারীদের বেতন কাঠামো প্রণয়ন, আয়করের বিষয় বিবেচনায় বেতন নির্ধারণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রেষণ, মহার্ঘ, উৎসব ও শ্রান্তিবিনোদন ভাতার যৌক্তিকীকরণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়, পেনশন ও অবসর সুবিধা আধুনিকায়ন, সেবার মান ও কর্মোদ্যোগের সঙ্গে বেতন কাঠামো মিলিয়ে নির্ধারণ, রেশন সুবিধা যৌক্তিকীকরণ, বেতনক্রমে অসংগতি দূরীকরণ, বাহিনীগুলোর মধ্যে বেতন বৈষম্য (যদি থাকে) নিরসন, চাকরির পদমর্যাদা ও পদবিন্যাস নির্ধারণ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিরূপণ, জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খরচ বিবেচনায় প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে।
কমিটিকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—অল্প বয়সে অবসর, যুদ্ধকালীন ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কর্তব্য পালনের ঝুঁকি, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা বজায় রাখা, কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে তিন বাহিনীর জন্য পৃথক সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে। পাশাপাশি যেকোনো সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ বা সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকবে।