
সংগৃহীত ছবি
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও চীন সরকারের আমন্ত্রণে চিত্রকলা ও জাদুঘরের শিল্পকর্ম সংস্কারে (রেস্টোরেশন) দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মনোনীত ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে চীনের উদ্দেশ্য যাত্রা করছেন তারা। মনোনীতরা সাংস্কৃতিক বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার রাতে শিল্পকলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ১৫ জন ও জাতীয় জাদুঘর থেকে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।
প্রশিক্ষণার্থীরা আগামী ২১ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের সেন্ট্রাল একাডেমি অফ কালচারাল অ্যান্ড ট্যুরিজম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ‘ট্রেইনিং কোর্স অন দ্য প্রিজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন টেকনিকস অফ আর্টিস্টিক প্রোডাক্ট ফর বাংলাদেশ’ ও ‘সেমিনার অন অপারেশনাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফ বাংলাদেশ ন্যাশনাল মিউজিয়াম’ শীর্ষক দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের চীনযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “এ বছর চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ৫০ বছরে পদার্পণ করল। গত বছর থেকে আমরা উচ্চস্তরের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করছি। জনগণের সঙ্গে জনগণের বিনিময়ের জন্য একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।”
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, “চীনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পেশাদারদের জন্য অ্যাক্রোবেটিক, ড্রোন প্রযুক্তি, চারুকলা, জাদুঘর অধ্যয়ন এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের মতো একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন চলমান রয়েছে। প্রতিটি উদ্যোগই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রমাণ। এ বছর আমরা প্রশিক্ষণের বিষয় হিসেবে জাদুঘর পরিচালনা, শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, আর্কাইভসহ গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং নতুন মিডিয়া শিল্প ইত্যাদিতে প্রসারিত করেছি।”
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, “গত বছর বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম এবং পুনর্জাগরণের একটি বছর ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের একটি সংজ্ঞায়িত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। সেই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করা এখন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এজন্যই আমরা জুলাই বিদ্রোহ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। গণভবনে যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকতেন এখন আমরা এটিকে আমাদের জুলাই বিদ্রোহ স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করেছি।”
মফিদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক দৃষ্টান্তের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে চীনের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি চীনা দূতাবাসের সহায়তায় আয়োজিত ৫টি ড্রোন শো, ১১ জন তরুণ প্রশিক্ষণার্থীকে ড্রোন পরিচালনা প্রশিক্ষণের জন্য সাংহাই পাঠিয়ে আমাদের জনগণকে সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির একটি নতুন মাধ্যমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।”