প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৫৩ AM

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত একটি বন্য হাতিকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে বন বিভাগের ১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিজিবির (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) হেলিকপ্টারে করে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত তিনজন হলেন- রাজারকুল বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আলী নেওয়াজ, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইন, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তাদেরকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহত ১২ জনকে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে একটি ১৫ সদস্যের চিকিৎসক ও বন কর্মকর্তাদের দল রামু উপজেলার দারিয়ারদীঘি সংরক্ষিত বনে যায়, যেখানে আহত হাতিটি অবস্থান করছিল।
হঠাৎ করেই পেছন থেকে আহত হাতিটি বন বিভাগের দলটির ওপর আক্রমণ চালায়। এতে ১৫ জন সদস্যই আহত হন। হাতিটি এক বন কর্মীর কাছ থেকে একটি বন্দুক কেড়ে নিয়ে বনের ভেতরে ফেলে দেয়, যা পরে উদ্ধার করা হয়।
৩ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি গুরুতরভাবে আহত হয়। হাতিটির সামনের ডান পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে, পায়ের নিচের অংশ ও নখ উড়ে গেছে। বাকি তিন পায়ে ভর দিয়ে কষ্ট করে চলাফেরা করছে। এছাড়া অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পানিশূন্যতায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাতিটির বেঁচে থাকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিজিবির একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।
বন বিভাগ জানায়, আহত হাতিটির গতিবিধি এখনো নজরে রাখা হচ্ছে। তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম