প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৪৯ পিএম আপডেট: ১৫.০৮.২০২৫ ৪:৫৪ PM

সংগৃহীত ছবি
পাবনার চাটমোহর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পাবনার চাটমোহরে এ ঘটনা ঘটে।
এএসআই শাকিল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা ও চাটমোহর থানায় কর্মরত। অপরদিকে প্রবাসীর স্ত্রী মাসুরা খাতুনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়। সে গুনাইঘাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য বজলুল হকের ছেলে প্রবাসী শহিদের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মাসুরা খাতুন প্রথমে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে চাটখিলে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান হয়। তবে বনিবনা না হওয়ায় সেই সংসার ভেঙে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। সেখানে চাটমোহরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রবাসী শহীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর মাসুরার বাবা শহীদকে সৌদি আরবে কাজে পাঠান। কিন্তু শহীদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে মাসুরা চাটমোহর পৌর সদরের চৌধুরীপাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
অন্যদিকে, এএসআই শাকিল আহমেদের প্রথম সংসার ভাঙার পর দ্বিতীয়বার এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে বিয়ে করেন এবং সেই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে চাটমোহর থানায় যোগ দেওয়ার পর একই এলাকায় বসবাসরত মাসুরার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়।
পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার শাকিল মাসুরাকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান মেলেনি।
ঘটনাটি নিয়ে চাটমোহর পৌর সদরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ওপেন হাউজ ডে চলাকালীন সময়ে থানার দায়িত্বে থাকা এএসআই শাকিলের এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সুধীজন শাকিলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সরাসরি এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শহীদের পরিবারও মাসুরা খাতুনের শাস্তি দাবি করেছে।
এএসআই শাকিলের পরিবারের সদস্যরা স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, তারা ঘটনাটি শুনেছেন, তবে শাকিল বাসায় ফেরেননি।
এ বিষয়ে চাটমোহর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আঞ্জুমা আক্তার বলেন, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তদন্ত শেষে এএসআই শাকিলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”