প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০৫ পিএম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জ উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাল দখল ও সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে প্রায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারছেন না এবং পচা পানিতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিনব্যাপী রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা সরকারি খাল দখল, বালু ভরাট, খালের ওপর গদি নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি স্থাপনের মতো একাধিক অনিয়মের সত্যতা পান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি খাল দখলমুক্ত করা হয়।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবেশ ছাড়পত্র সদর দপ্তরের পরিচালক মাসুদ ইকবাল মোহাম্মদ শামীম, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএইচএম রাশেদ, পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার তাছবীর হোসেন সুজাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছবীর হোসেন জানান, কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কোশাব, আইতলা ও ডুলুরদিয়া গ্রামের খালগুলো একসময় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু এসব খাল দখল ও ভরাট করে আবাসন প্রকল্প, মিল-ফ্যাক্টরি ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সব দখল ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং ভরাট খালগুলো দ্রুত খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইষ্টউড আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাকে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে, তবে তার আগেই সরকারি খাল খনন শেষ করব। পাশাপাশি নিয়ম মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করব।”
পরিবেশ ছাড়পত্র সদর দপ্তরের পরিচালক মাসুদ ইকবাল শামীম জানান, ইষ্টউড আবাসন কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি খাল ভরাটের প্রমাণ মিলেছে। ইতোমধ্যে ভেকু দিয়ে কয়েকটি খাল খনন শুরু হয়েছে এবং কোম্পানিকে তিন মাসের মধ্যে দখলকৃত সব খাল খনন করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ