প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৫৭ AM আপডেট: ১১.০৮.২০২৫ ১১:০২ এএম

সংগৃহীত ছবি
পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়া, আমদানির বন্ধ এবং টানা বৃষ্টির অজুহাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজের দাম ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। ৩১ জুলাই খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৫ টাকা, যা ১ আগস্ট বেড়ে ৬০ টাকা এবং ৮ আগস্ট পৌঁছায় ৮৫ টাকায়। গতকাল রবিবার (১০ আগস্ট) তা ৯০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে।
ভোক্তা সাইদুর রহমান জানান, গত ১৫-২০ বছর ধরে পেঁয়াজের বাজারে এই অরাজকতা ও সিন্ডিকেটের কাণ্ড চলছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছেন, যদিও সরবরাহে কোনো সংকট নেই।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম সহনীয় রাখতে এবং আমদানিকে সচল করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন।
তিনি বলেন, প্রতিবছর অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের মূল্য কারসাজি করেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতি ৫ কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম বর্তমানে ৩৪০-৩৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৯০-১১০ টাকা বেশি। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম ৮০-৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
কাওরান ও নয়াবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতির কথা বলা হলেও আড়তগুলোতে প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে, কিন্তু দাম বেশি থাকার কারণে বাড়তি খরচ করে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামে পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহে খুচরা ও পাইকারি বাজারে যথাক্রমে ৮৫-৯০ টাকা এবং ৬৭-৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানির বন্ধ এবং ভারি বর্ষণের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ার বিষয়টি আড়তদাররা স্বীকার করেছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কৃষক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে তিন স্তরে তদারকি করা হচ্ছে। কেউ অনৈতিকভাবে দাম বাড়ালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানি সচল করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ভোক্তারা স্বস্তি পায়।