প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০৬ AM

সংগৃহীত ছবি
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় ভ্যানচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন রূপলাল দাস ও তাঁর ভাগনির স্বামী প্রদীপ দাস।
নিহত রূপলাল একজন জুতা সেলাইকারী ছিলেন, তার স্ত্রী ভারতী দাস (৩৫) ও তিন সন্তান রয়েছে।
শনিবার রাতে মিঠাপুকুর থেকে নিজের ভ্যান চালিয়ে রূপলালের বাড়ি আসছিলেন প্রদীপ। গ্রামের ভেতর দিয়ে আসার সময় রাস্তা না চেনায় প্রদীপ সয়ার ইউনিয়নের কাজীরহাট এলাকায় এসে রূপলালকে ফোনে ডেকে নেন। সেখান থেকে দুজন ভ্যানে ঘনিরামপুর আসছিলেন। রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানচোর সন্দেহে দুজনকে থামান স্থানীয় কয়েকজন। এর পর সেখানে লোক জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রদীপ দাসের ভ্যানে থাকা বস্তা থেকে চারটি প্লাস্টিকের বোতল বের করা হয়। একটি বোতল খুললে ভেতরে থাকা তরলের ঘ্রাণে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলমগীর হোসেন ও মেহেদী হাসান। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। স্থানীয়রা ভ্যানচোর সন্দেহে তাদের মারধর শুরু করে। পরে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখা হয়।
পরবর্তীতে, পুলিশ তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রদীপকে হাসপাতালে নেয়া হলে রবিবার ভোরে তিনিও মারা যান।
নিহতের স্ত্রী ভারতী দাস ৭০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরিবার এখন দিশেহারা, ছোট দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা লালিচা দাসের বেঁচে থাকার আশায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বড় মেয়ে নূপুর দাস বললেন, ‘আমার বিয়ের দিন ঠিক করার কথা ছিল, এখন আমি এতিম হয়ে গেলাম।’
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা বলছেন, তাদের সংসার চালানোর একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। রূপলালের স্ত্রী ভারতী দাস অজ্ঞাতপরিচয় অন্তত ৭০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।