
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অন্যতম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পানাম নগর। এ নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরিবারসহ বিনা ভাড়ায় এসব ভবনেই বসবাস করছেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেক পর্যটক।
আজ রবিবার (১০ আগস্ট) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নগরীর মধ্য দিয়ে একটি পিচঢালা সড়ক গেছে, আর দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে অতীতের সাক্ষী ৫২টি ভবন। এর মধ্যে মাত্র দুটি ভবন সংস্কার করে পুরনো স্থাপত্য রূপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে সবগুলো ভবনেই পর্যটকদের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ; কোথাও দরজায় তালা, কোথাও আবার ইট দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ। কিন্তু ৩ ও ৩৩ নম্বর ভবনে ভিন্ন চিত্র- এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা যায়, ৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন দায়িত্বে থাকা সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. সিয়াম চৌধুরী ও কর্মচারী মতিউর রহমান এবং মাস্টারোলে কর্মরত সাইফুল ইসলাম। ওই ভবনের নিচ তলায় এককভাবে থাকেন বুকিং সহকারী মঞ্জুর হোসেন, মাস্টাররোলে কর্মরত মো. সাগর ও মো. ফিরোজ। এ ছাড়া ৩৩ নম্বর ভবনে থাকেন পানাম নগরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ২০ জন আনসার সদস্য।
এতে প্রশ্ন উঠেছে- যদি ভবনগুলো পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে দায়িত্বরতদের জন্য তা কীভাবে নিরাপদ?
ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, “যেখানে ঝুঁকির অজুহাতে আমাদের প্রবেশ বন্ধ, সেখানে তারা পরিবারসহ থাকছেন-এটা কীভাবে যৌক্তিক?”
২০২২ সাল থেকে পানাম নগরীতে সহকারী কাস্টোডিয়ান হিসেবে কর্মরত মো. সিয়াম চৌধুরী। শুরু থেকেই তিনি নগরীর ৩ নম্বর ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
সিয়াম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পর্যটকদের ভবনে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। যে দুটি ভবনে তারা বসবাস করছে সেগুলো ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়।” ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিনা ভাড়ায় আমরা বসবাস করছি। ভাড়াই যদি পরিশোধ করতে হবে, তবে কেনো জরাজীর্ণ ভবনে বসবাস করব।”
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, “দুই-তিনটা ভবনের কিছুটা মেরামত করে দিয়েছি, সেই হিসেবে ওনারা থাকেন। বাকিগুলো মেরামত করতে পারিনি। এমনও হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে উঠে দেয়াল থেকে পরে শ্রমিক গুরুতর ব্যথা পেয়েছেন, একজন মারাও গিয়েছিল সম্ভবত কয়েক বছর আগে। এ জন্য সতর্ক করি।”
বাসা ভাড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, “যারা থাকছেন এখন পর্যন্ত বাসা ভাড়া দেন না। তবে বাসা ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।”