প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৪২ পিএম আপডেট: ০৬.০৮.২০২৫ ৪:৪৬ PM

বর্ষার মৌসুমেও মানিকগঞ্জের বাজারে দেশি মাছের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাছই খামারে চাষকৃত- শিং, মাগুর, পাঙাশ, তেলাপিয়া ইত্যাদি। দেশি মাছের স্বাদ ও ঘ্রাণে অভ্যস্ত ক্রেতারা বাজারে ছুটে বেড়ালেও শেষে বাধ্য হয়ে চাষের মাছ কিনেই ফিরছেন বাড়ি।
ইলিশের মৌসুম চললেও পদ্মা ও যমুনা নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ মিলছে না। প্রতিদিন শত শত জেলে নদীতে নামলেও জালে ধরা পড়ছে ২ থেকে ৪টি ছোট আকারের ইলিশ। দামও নাগালের বাইরে।
২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজিতে, আর এক কেজির ইলিশের দাম ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
এক সময় ইলিশে সরগরম থাকা আরিচা মাছের আড়তে এখন সেই চিত্র উল্টো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, ‘নদীতে এখন নাব্যতা কম, অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়েছে। সারা বছর বালু উত্তোলনের কারণে মাছ কমে গেছে। ট্রলারের শব্দ ও তেলের গন্ধে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
চাষের চিংড়ি কেজি প্রতি ১২০০ টাকা, আর নদীর চিংড়ির দাম ছাড়িয়েছে ২০০০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি।
ভোক্তা নিপেন সাহা বলেন, ‘আমি একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়াই। বছরেও একটি ইলিশ কিনতে পারি না। এক কেজির একটি ইলিশ কিনতে লাগে প্রায় ৩ হাজার টাকা!’
মানিকগঞ্জ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা সভাপতি এ বি এম সামছুন্নবী তুলিপ বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদের কোনো বাস্তবিক ক্ষমতা বা দায়-দায়িত্ব নেই।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, ইলিশের প্রজনন ও আবাসস্থল রক্ষায় আমরা জেলেদের পরামর্শ দিচ্ছি, প্রচারনা চালানো হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ জনগণের সচেতনতা খুব জরুরি। শুধু অভিযান চালিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম