
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভূমিহীন ও দুঃস্থ মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৪ বছরেও ঘরগুলোর সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই চাল ফুটো দিয়ে পানি পড়ে, দেয়ালের বেড়া খুলে পড়ছে, আর বসবাসকারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- ২০০১ সালে নির্মিত ঘরগুলোর টিন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে ভিজে যাচ্ছে বিছানা, বালিশসহ আসবাবপত্র। অনেকে ছাউনি ঢেকে রাখছেন পলিথিন দিয়ে, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা সূর্যভান বেওয়া বলেন, ‘ছাউনির টিন জালের মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। কেউ কোনো খোঁজ নেয় না।’
আরেক বাসিন্দা জামিরন বেওয়া বলেন, ‘চাল দিয়ে পানি পড়ে, বাতাস ঢোকে। সরকার যদি একটু ব্যবস্থা করত, তাহলে অন্তত শান্তিতে থাকতে পারতাম।’
২০০১ সালে সাড়ে ৩ একর জায়গায় নির্মিত এই প্রকল্পে ৪টি ব্যারাকে ১৫০টি পরিবারের ঘর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো মেরামতের কাজ হয়নি। ফলে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পুরো প্রকল্প।
টাপুরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. রহিম বাদশা বলেন, ‘আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, লিখিত আবেদনও দিয়েছি। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয় না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, ‘চালগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গরিব মানুষগুলোর দিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি।’
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সরকার বলেন, ‘সরকার গরিবদের জন্য যে ঘর দিয়েছে, তা যদি টিকেই না থাকে, তাহলে সেই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। আমি বহুবার সভায় এ নিয়ে বলেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এই মুহূর্তে বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। তবে বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ঘরগুলো মেরামত করা হবে।’
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী মো. নাজমুল হক বলেন, ‘এদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত করা হলে অনেকেই আত্মনির্ভর হতে পারবে।’
সরকারিভাবে গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া এই প্রকল্প এখন নিজেই সাহায্যপ্রার্থী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের নজর ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই অবহেলিত মানুষগুলোর জীবন আবারও কিছুটা স্বস্তির করতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম