প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৪০ AM

সংগৃহীত ছবি
ধূমপানকে ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অধূমপায়ীদের মধ্যেও এই মরণব্যাধির হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গবেষণা বলছে, এ প্রবণতার মূল কারণ পরোক্ষ ধূমপান অর্থাৎ ধূমপায়ীর আশপাশে থেকে ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ফুসফুস ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের জন্য দায়ী। আর এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ ধূমপান, যা প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রে এই রোগের জন্য দায়ী।
ভারতীয় এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ফুসফুস ক্যান্সারে সব থেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এটি সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ। প্রতি বছর এই ক্যান্সারে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮% এর জন্য এই রোগ একাই দায়ী এবং একই সময়ে নতুন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যায় এটি ১১% যোগ করে। সরাসরি বললে, এটি সেই ক্যান্সারগুলোর মধ্যে একটি যার ফলাফল সবচেয়ে খারাপ।
তিনি আরও বলেন, ফুসফুস ক্যান্সারের মূল ঝুঁকির কারণ হলো ধূমপান, যা মোট ফুসফুস ক্যান্সারের প্রায় ৯০% ঘটনার জন্য দায়ী। ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি ১০ থেকে ৩০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে তোলে। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে এই ঝুঁকি ২০% থেকে ৯০% পর্যন্ত কমে যায় এবং ধূমপান বন্ধ করার পাঁচ বছরের মধ্যেই তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, যদি কোনো নারী ধূমপায়ী ব্যক্তির সঙ্গী হন, তবে তার মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের মধ্যে যে ফুসফুস ক্যান্সার দেখা যায়, তার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। অধূমপায়ীদের মধ্যে যে ফুসফুস ক্যান্সার দেখা যায়, সেটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট জিনের দ্বারা চালিত হয়, যাকে ড্রাইভার মিউটেশন বলা হয় এবং এই কারণে একে অঙ্কো-জিন অ্যাডিকটেড ফুসফুস ক্যান্সার বলা হয়। এই অঙ্কো-জিন নির্ভরতা একটি সুযোগ তৈরি করে রোগটিকে লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ বা মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটের মাধ্যমে চিকিৎসা করার, প্রাথমিক পর্যায়ে হোক বা অ্যাডভান্সড পর্যায়ে।