
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি অংশের গোপন বৈঠকের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হক (ওরফে মেজর সাদিক)–কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি গোপন এ বৈঠকের অন্যতম সমন্বয়কারী বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘প্রিয় স্বদেশ’, ‘এফ ৭১ গেরিলা’, ‘শেখ হাসিনা’, ও ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম’ নামে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন। পুলিশের দাবি, তারা গোপনে সংগঠিত হয়ে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন।
ভাটারা থানার পুলিশ জানায়, ৮ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসুন্ধরার কে বি কনভেনশন সেন্টারে এ বৈঠক হয়। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন সেখানে অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে শেখ হাসিনার ‘পুনরায় ক্ষমতায় আসা’ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করা হয় এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত মেজরের বিষয়ে তারা অবগত এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলাও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, কীভাবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল এবং শেখ হাসিনাকে ‘ঘোষণার মাধ্যমে’ পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর পরিকল্পনা চলছিল।
কনভেনশন সেন্টারের ব্যবস্থাপক মুজাহিদ পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনের পুরো সময় ব্যানারবিহীন রাজনৈতিক কার্যক্রম চলে, যা অনেকেই “রাজনৈতিক রিহার্সেল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম