
বর্তমান সময়ে সময় সচেতনতা ও ব্যক্তিগত শৈলীর অংশ হিসেবে ঘড়ি পরা একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয়। তবে অনেকে জানতে চান, ইসলামে ঘড়ি পরার নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা আছে কি না? ডান হাতে ঘড়ি পরা উত্তম, না বাম হাতে? নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বিধান রয়েছে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় শরিয়াহ ভিত্তিক বিভিন্ন ফিকহি ব্যাখ্যা ও আলেমদের অভিমতের মাধ্যমে।
ইসলামী শরিয়াহ মতে, ঘড়ি পরা মূলত একটি পারমিটেড (মুবাহ) বা বৈধ বিষয়, এটি ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। এটি কোনো ইবাদতের অংশ না হলেও দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার সহায়ক হওয়ায় শরিয়ত এতে কোনো বাধা দেয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কোনো স্পষ্ট কুরআনিক আয়াত বা সহিহ হাদিস নেই যেখানে বলা হয়েছে ঘড়ি অবশ্যই ডান হাতে পরতে হবে। তবে ইসলামিক আদব অনুসারে, উত্তম কাজ ও সম্মানজনক ব্যবহার ডান হাত দিয়ে করাই রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহরা বলেন, ‘ডান হাতে ঘড়ি পরা মুস্তাহাব (উত্তম), কেননা রাসূল (সা.) ভালো ও পবিত্র কাজগুলো ডান হাত দিয়ে করতেন। তবে বাম হাতে ঘড়ি পরা জায়েজ - এতে কোনো গোনাহ নেই, বিশেষ করে যদি প্রয়োজন হয় বা ব্যবহারিক দিক থেকে বাম হাতে পরা সুবিধাজনক হয়।
হাদিসে এসেছে, ‘রাসূল (সা.) ভালো কাজ, খাওয়া, পরা, চিরুনি ব্যবহার ইত্যাদি ডান হাতে করতেন এবং অপবিত্র কাজ বাম হাতে করতেন।’ (বুখারি: ৫৯২৫, মুসলিম: ২৬৭)
নারীদের ক্ষেত্রেও ঘড়ি পরা একেবারে বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য। তবে ইসলামি পর্দা ও শালীনতার নির্দেশনা অনুযায়ী- ঘড়ি যেন অলংকারের মত দৃষ্টি আকর্ষণকারী না হয় নারী যদি এমন জায়গায় যান যেখানে পরপুরুষ আছে, তাহলে হাত ঢেকে রাখাই উত্তম।
তবে নিজের ঘরে বা মাহরামদের মাঝে ঘড়ি অলঙ্কার হিসেবে পরলে এতে কোনো আপত্তি নেই।
দারুল উলুম দেওবন্দ, ইসলামী ফিকহ একাডেমি ও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমদের মতে, ‘ঘড়ি পরার বিষয়ে শরিয়াহ নিরপেক্ষ। ডান বা বাম হাত, উভয়েই পরা বৈধ। তবে কেউ সুন্নাহর আদব অনুসারে ডান হাতে পরলে এটি ফজিলতের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।’
শায়খ ইবনে বায (রহ.) বলেন, ‘ঘড়ি পরা একটি দুনিয়াবি বিষয়। বাম বা ডান যেভাবে সহজ হয়, সেভাবেই পরা যায়। শরিয়তে এ বিষয়ে কঠোর কোনো বিধান নেই।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম