প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৪:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।
যদি কেউ আইনসংগত কারণ ছাড়া সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অমান্য করেন বা এর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেন বা এসব কাজে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করেন তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।
গতকাল বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
নতুন এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি, অন্য সহকর্মীদের প্ররোচনা, যৌক্তিক কারণ ছাড়া একসঙ্গে কর্মবিরতি বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা অন্যকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এসব অসদাচরণের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত এসব শাস্তি দেওয়া যাবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমে অভিযোগ গঠন করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশ পাঠানো হবে। এতে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি না, তাও জানতে চাওয়া হবে।
অভিযুক্ত জবাব দিলে বা না দিলেও, অভিযোগ গঠনের তিন দিনের মধ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির সদস্যদের অভিযুক্তের চেয়ে জ্যেষ্ঠ হতে হবে এবং অভিযুক্ত নারী হলে অবশ্যই একজন নারী সদস্য রাখতে হবে।
তদন্ত কমিটি আদেশ পাওয়ার ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রয়োজনে একবারের জন্য ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না দিলে তা কমিটির অদক্ষতা হিসেবে গণ্য হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সরকারি বায়োডাটা ও ডোসিয়ারে সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে নতুন কমিটি গঠন করে তদন্ত চালানো হবে।
দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তকে তদন্ত প্রতিবেদনসহ দণ্ডের বিষয় অবহিত করা হবে। দণ্ড আরোপের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।