প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ২:২৪ পিএম

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছিল উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে। কেউ কাঁদছিলেন প্রিয় সহপাঠীর জন্য, প্রিয় সহকর্মী হারানোর কষ্টে শিক্ষকরাও ছিলেন নীরব-নিস্তব্ধ। সেখানে দেখা যায় শিক্ষক নাসিরউদ্দিনকে। ঘটনার সময় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
সোমবার দুর্ঘটনার সময় কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। চোখের সামনে নিরুপায় হয়ে আগুনে দগ্ধহতে দেখেন স্নেহের শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষক নাসিরউদ্দিন বিবিসিকে বলেন, ‘একটা প্রচণ্ড সাউন্ড হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমি রুম থেকে বের হয়ে দেখি বিদ্যালয়ের একটা অংশ পুরো ভেঙে গেছে। এর পরেই সাবই আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করে। ঘটনা স্থালে গিয়ে দেখি আগুন ধরে গেছে। এর পরেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পরে।
তিনি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘বারবার আমরা পানি দিচ্ছিলাম, কিন্তু আগুন কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। কিছুক্ষণ পরে আমার হাতের বামে দেখি অনেকগুলো স্টুডেন্ট আমার নাম ধরে ডাকতেছে, বলতেছে- স্যার আমাদের বাঁচান।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমিসহ কয়েকজন গ্রিল ভেঙে ১২/১৩ জনকে উদ্ধার করি। প্রায় আধাঘণ্টা পর আমি আমার ডিপার্টমেন্টে আসি। আমার ডিপার্টমেন্টে আসি যখন তখন আমার পিয়ন বলে স্যার ডিপার্টমেন্ট পুরোটা ভেঙে গেছে।’
স্কুলটির শারীরিক শিক্ষা বিভাগেই শিক্ষক নাসিরউদ্দিনের অফিস। বিধ্বস্ত ভবনে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করার নিজ বিভাগে ফিরে আসেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তারপর ভেতরে ঢুকে দেখি আমার ডেস্ক পুরোটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে গেছে। উপরে দেখতে পাই প্যারাসুট। তখন গুঞ্জন আসলো প্যারাসুট থাকলে মানুষ আসতে পারে।’
তিনি বলছিলেন, ‘বিমান বাহিনীর লোকরা সার্চ করে দেখে আমার ঘরের এক কোনায় পড়েছিল পাইলট। টিনের চাল ভেঙে আমার ঘরেই মধ্যে পড়েছিল পাইলট। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে পাইলটকে।’
সূত্র: বিবিসি বাংলা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম