প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪৭ AM

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুলের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
সোমবার দুর্ঘটনার পর পরই সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী স্কুলটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল হলে অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিধ্বস্ত ভবনটি দেখতে ভিড় করেন।
দুপুরের দিকে সিআইডি পুলিশের একটি টিম ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করে। তাদের সঙ্গে বিমান বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও তদন্তে অংশ নেন। পরে দুপুর ১২টার পর নিরাপত্তা বাহিনী সরে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবনের চারপাশ ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, বিধ্বস্ত ভবনটি ছিল একটি দোতলা ভবন, যেখানে ১২টি শ্রেণিকক্ষ ছিল। ক্লাস চলাকালীন সময়ে ভবনে ২০০-২২০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানান প্রভাষক মো. রেজাউল হক।
তিনি বলেন, ‘বিমানটি ভবনের একেবারে মাঝ বরাবর নিচে আঘাত করে। যে কারণে নিচতলার কক্ষগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোতলার শিক্ষার্থীদের অনেককেই উদ্ধার করা গেলেও, নিচতলার অনেক শিক্ষার্থী আগুনে দগ্ধ হয়েছেন।’
ঘটনার সময় চলছিল টিফিনের বিরতি। কেউ কেউ বাসায় ফিরছিলেন, কেউ বাইরে যাচ্ছিলেন- এজন্য অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে না থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) দুপুর ২টার দিকে জানায়, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু এবং ১৬৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আইসিইউতে ভর্তি থাকা ‘নাফি’ নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে।
স্কুলে আসা অনেক অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী নিহত ও আহতদের তালিকা দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। এখন পর্যন্ত স্কুল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম