প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ১:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সারা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রশ্ন উঠেছে—কী ঘটেছিল আসলে বিমানটিতে?
বাংলাদেশ আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে ‘এফটি-৭ বিজিআই’ যুদ্ধবিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উড্ডয়ন করে। এটি ছিল পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের একক (সৌল) ফ্লাইট ট্রেনিং।
সৌল ফ্লাইট ট্রেনিংয়ে কোনো কো-পাইলট, নেভিগেটর বা ইন্সট্রাক্টর থাকে না। সৌল ফ্লাইট ট্রেনিং হলো একজন পাইলটের ট্রেনিংয়ের সর্বশেষ ধাপ। এটি একজন ফাইটার পাইলটের দক্ষতা ও প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায় প্রমাণ করে।
জানা যায়, সাধারণত ট্রেনিং ফ্লাইটগুলো জনবসতি থেকে দূরে পরিচালিত হয়। তবে সৌল ফ্লাইট ট্রেনিং অনেক সময় শহরের আকাশপথেই সম্পন্ন হয়, যেটির জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চমাত্রার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস। তৌকির ছিলেন এমন একজন কোয়ালিফায়েড পাইলট। উড্ডয়নের পর তিনি উত্তরা, দিয়াবাড়ী, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকা হয়ে উড়ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিমানে কারিগরি সমস্যার আভাস পান এবং কন্ট্রোল রুমে জানান, বিমানটি নিচের দিকে নামছে ও স্বাভাবিক ভেসে থাকার ক্ষমতা হারাচ্ছে বলে বার্তা দেন তিনি। এরপরই কন্ট্রোল রুম থেকে তাঁকে ‘ইজেক্ট’ (জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটের সিট খুলে বের করে দেওয়া) নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সাহসিকতার সঙ্গে তৌকির ইসলাম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটি জনবহুল এলাকায় না পড়ে জনবিরল স্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়।
বিমান বিধ্বস্তের কারণ জানতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাহিনী। পুরো ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক জানানো হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা:১:০৬ মিনিট: কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন
১:০৭ মিনিট: কন্ট্রোল রুমে সমস্যার বার্তা
১:০৮-১:০৯ মিনিট: কন্ট্রোল বিচ্ছিন্ন
দুপুর ১:১০ মিনিটের মধ্যে: উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিধ্বস্ত